‘বিএনডিএ বাস্তবায়ন ছাড়া ই-গভর্নেন্স বাস্তবায়ন সম্ভব নয়’

৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২২ ১৩:৫৩  
বিচ্ছিন্ন ভাবে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তর থেকে তৈরি হচ্ছে বিভিন্ন সফটওয়্যার ও অ্যাপ্লিকেশন। ব্যবহৃত হচ্ছে দেশী-বিদেশী হার্ডওয়্যার। এতে যেমন তথ্যের ভাগাড়ে পরিণত হচ্ছে সার্ভারগুলো আবার ব্যবহৃত হার্ডওয়্যারের নিরাপত্তা কিংবা চুক্তি। এজন্য আন্তর্জাতিক মান টোগ্যাব এর প্রেক্ষাপটে জাতীয় নীতিমালার অধীনে একটি পরিকাঠামো তৈরি করা হয়েছে বাংলাদেশ ন্যাশনাল ডিজিটাল আর্কিটেকচার (বিএনডিএ)। এই মান বাস্তবায়ন করা গেলে তথ্য-উপত্তের পুনর্ব্যবহারের মাধ্যমে অনাবশ্যক দ্বৈততা পরিহার এবং সময়, খরচ ও যাতায়াত হ্রাস করা যাবে মনে করছে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের (বিসিসি) অধীনে গঠিত বিএনডিএ বাস্তবায়ন কমিটি। আর এর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে মন্ত্রণালয়গুলোর মধ্যে সমন্বয়ে গুরুত্ব দিয়ে বুধবার প্রাথমিক পর্যায়ে ১০টি মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় কর্মশালা। কর্মশালায় জানানো হয়, বিএনডিএ বাস্তবায়ন না হওয়ায় ইলেকট্রনিক বিভাগ-জেলা-উপজেল ও ইউইনয়ন পর্যায়ে ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে এপিআই এর মাধ্যমে আন্তঃমন্ত্রণালয় তথ্য-উপাত্তের নিরবিচ্ছিন্ন সংযোগ ব্যহাত হচ্ছে। তথ্য ওয়েবে থাকলেও তা সিস্টেমে ব্যবহার করা যাচ্ছে না। আন্তঃপরিবাহিতা নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। একইভাবে আন্তঃসংযোগ সুবিধা না থাকায় এখনো আমরা ড্রাইভিং লাইসেন্স যাচাই করতে পারছি না। অথচ বিএনডিএ’র মাধ্যমে প্রকিউরমেন্টের ক্ষেত্রে ই-সার্ভিস উন্নয়ন করা হলে আন্তঃমন্ত্র তথ্য-আদান প্রদান সহজ হবে। এর গাইড লাইন ফলো করলে সরকারি সংস্থাগুলো হার্ডওয়্যার নিউট্রালিটি সুবিধা উপভোগ করতে পারবে। কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের যুগ্মসচিব (ই-গভর্নেন্স অধিশাখা) মো: ছাইফুল ইসলাম ২০১৯ সালের জুলাইয়ে দুই স্তরের গর্ভনেন্স ফ্রেমওয়ার্ক গাইডলাইন অনুযায়ী সবাইকে বিএনডিএ গাইড লাইন মানা বাধ্যতামূলক উল্লেখ করে বলেন, বিএনডিএ বাস্তবায়ন কমিটির ১৩ সদস্যের বাইরে অন্যান্য মন্ত্রণালয়গুলো বিএনডিএ গাইড লাইন বিষয়ে জানলেও এটি বাস্তবায়নের গতি স্লথ হয়ে গেছে। তারা ইচ্ছে মতো সফটওয়্যার ডেভলপমেন্ট করছে, হার্ডওয়্যার কিনছে। রোড ম্যাপ তৈরি করছে। অ্যাপ্লিকেশন বানাচ্ছে। এর জন্য বিএনডিএ কমপ্লায়েন্স রয়েছে। ডাটা, অ্যাপ্লিকেশন বা বিজনেস বা সিকিউরিটি যাই হোক না কেন এ জন্য বিএনডিএ ফলো করে তা বাস্তবায়ন করতে হবে। আমাদেররকে এ জন্য বিএনডিএ বাস ব্যবহার করতে হবে। এতে সফটওয়্যার বা টুলসের ব্যবহার এবং হার্ডওয়্যার স্পেসিফিকেশনে শৃঙ্খলা আসবে। এতে বিশ্বে আমরা বিশ্বে সিকিউরিটি আর্কিটেকচারে প্রথম দিকে থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হবে। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের যুগ্মসচিব (ডিজিটাল গভর্নেন্স ও সিকিউরিটি অনুবিভাগ) এবং বিএনডিএ বাস্তবায়ন কমিটির সদস্য সচিব মোঃ আবদুস সাত্তার সরকারের সঞ্চালনায় কর্মশালায় বিএনডিএ নীতিমালা’র বিস্তারিত তুলে ধরেন বিএনডিএ টিমের টেকনিক্যাল এক্সপার্ট তানিম উল বারী এবং নির্দেশিকা বিষয়ে আরেকটি উপস্থাপনা দেন বিসিসি’র অ্যাপ্লিকেশন সিকিউরিটি ম্যানেজার (ই-সার্ভিস) ও পরামর্শক এ কেএম গোলাম সারওয়ার। কর্মাশালায় সমাপনী বক্তব্যে এনডিসি পরিচালক তারেক মোসাদ্দেক বরকতুল্লাহ বলেন, এই কর্মাশালা অব্যহত থাকবে। কর্মাশালা থেকে যেসব পরামর্শ এসেছে সে বিষয়গুলো মূল কমিটির কাছে উপস্থাপন করে বিএনডিএ বাস্তবায়নে পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে।